* আমরা বাঙালী দলের আন্দোলনের আদর্শ বা দর্শন : প্রগতিশীল উপযোগ তত্ত্ব প্রগ্রেসিভ ইউটিলাইজেশন থিওরি। বা প্রাউট। * * যুগান্তকারী আধুনিক সামাজিক-অর্থনৈতিক দর্শন প্রগতিশীল উপযোগ তত্ত্ব ( Progressive Utilization Theory বা PROUT) -এর প্রবর্তক হলেন- বিশ্ববন্দিত দার্শনিক, ঋষি শ্রী প্রভাত রঞ্জন সরকার। তিনি ১৯৫৯ সালে সমস্ত জাগতিক সমস্যা সমাধানে এই তত্ত্ব উদ্ভাবন করেন।
* প্রাউট দর্শন হলো- বর্তমান যুগে প্রচলিত ধনতন্ত্র বা পুঁজিবাদ (Capitalism) ও জড়বাদ তথা মার্কসবাদ (Marxism) বা কমিউনিজমের একমাত্র বিকল্প সর্বানুস্যূত দর্শন। ধনতন্ত্র বা পুঁজিবাদে ব্যষ্টির স্বার্থে যেখানে সমষ্টির স্বার্থকে বলি দেওয়া হয়েছে সেখানে মার্কসবাদ বা কমিউনিজমে সমষ্টির স্বার্থে ব্যষ্টির স্বার্থ ও স্বাধীনতাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়েছে। অন্যদিকে প্রাউট তত্ত্বে ব্যষ্টি স্বার্থের সঙ্গে সমষ্টি স্বার্থের একটি সুসামঞ্জস্য (Happy Blending between Individual liberty and Collective interest) বিধান করা হয়েছে।
* প্রাউট দর্শনকে বাস্তবায়নের জন্য প্রাউট প্রবক্তা সমাজ আন্দোলন (Samaj Movement ) এর ধারণা দিয়েছেন । প্রাউট প্রবক্তার দেওয়া বিধান অনুযায়ী গোটা ভারতবর্ষকে ৪৪ টি ও গোটা পৃথিবীকে ২৫৬ টি সামাজিক-অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে । এর মধ্যে আমরা বাঙালী সমাজ আন্দোলনের স্থান এক (১) নম্বরে।
* বর্তমান ভারত বর্ষ বা পৃথিবীর বিভিন্ন রাষ্ট্রে শাসন কার্যের সুবিধার জন্য কতকগুলি ছোট ছোট রাজ্য পলিটিক্যাল ইউনিটে (Political Unity) বিভক্ত করা হয়েছে ।
* বর্তমানে অর্থনৈতিক পরিকল্পনা তৈরি হয় কেন্দ্রে, বাস্তবায়ন হয় রাজ্যে । কিন্তু রাজ্য বা অঞ্চল ভেদে সমস্যা, সম্ভাবনা, মানুষের প্রয়োজন ভিন্ন হওয়ায় কোন একটি পরিকল্পনা এক জায়গায় সফল হলেও অন্য জায়গায় তা ব্যর্থ হয়ে যায়। সেই দিক দিয়ে লক্ষ্য রেখে প্রাউট প্রবক্তা দেশের প্রতিটি অঞ্চল যাতে অর্থনৈতিক দিক দিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে ওঠে , সামাজিক দিক দিয়ে প্রতিটি জাতি গোষ্ঠীর সামাজিক-অর্থনৈতিক সমস্ত দিক দিয়ে শোষণ মুক্তি ঘটে ও অর্থনৈতিক স্বয়ম্ভরতা অর্জন করতে পারে তজ্জন্যে সামাজিক-অর্থনৈতিক অঞ্চল গুলি গঠন করার ক্ষেত্রে যে নীতি নির্দেশিকা তিনি দিয়েছেন তা অভিনব । সেগুলি হলো:- ১) একই সাদৃশ্য যুক্ত ভৌগোলিক অঞ্চল (ভূপ্রকৃতি, জলবায়ু ইত্যাদি)। ২) একই নৃতাত্ত্বিক সাদৃশ্য যুক্ত অঞ্চল (ভূপ্রকৃতি, জলবায়ু ইত্যাদি)। ৩) একই অর্থনৈতিক সমস্যাযুক্ত অঞ্চল (ভূপ্রকৃতি,জলবায়ু ইত্যাদি)। ৪) একই সম্ভাবনা যুক্ত অঞ্চল ও ৫) একই ভাষা, কৃষ্টি-সংস্কৃতি তথা ঐতিহ্য বা সাংবেদনিক উত্তরাধিকার, সেন্টিমেন্টাল লিগেসি (Sentimental legacy) যুক্ত অঞ্চল গুলি নিয়েই এক একটি সামাজিক-অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘটন করতে হবে. * * উল্লেখ্য যে, ভারতের সংবিধানের রাজ্য পুনর্গঠন আইনের ৩ নং ধারা অনুযায়ী "বাঙালীস্তান" একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ সামাজিক-অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠিত হতে পারে ।
* প্রাউট তত্ত্ব অনুযায়ী কোন বিশেষ অঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিক স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের জন্যে স্থানীয় কাঁচামাল ও অর্থের বহিস্রোত বন্ধ করা অপরিহার্য। সেই অর্থে শুধু নৃতাত্ত্বিক বা ভাষাগত বিচারে নয়, স্থানীয় অর্থনীতি তথা স্বার্থের সঙ্গে যারা নিজেকে একাত্ম করে নিতে পারবেন তিনি বা তারাই স্থানীয় মানুষ হিসাবে গণ্য হবেন।
সমাজ আন্দোলনের (self sufficient economic zone) - এর প্রাথমিক লক্ষ্য:- কোন নির্দিষ্ট অঞ্চলের প্রতিটি মানুষের সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, তথা জাগতিক, মানসিক ও আত্মিক প্রতিটি স্তরে শোষণমুক্তি ঘটানো ।
* সমাজ আন্দোলনের চূড়ান্ত লক্ষ্য:- আঞ্চলিক শ্রী বৃদ্ধির হাত ধরে বিশ্বৈকতাবাদের (Universalism) প্রতিষ্ঠা তথা এক অবিভাজ্য মানব সমাজ প্রতিষ্ঠা। অর্থাৎ এমন এক পরিবেশ রচনা করা যেখানে সমাজের প্রতিটি মানুষ নিজেকে এক পরম পিতা তথা বিশ্ব স্রষ্টার সন্তান ,এক পরিবারের সদস্য হিসাবে একান্নবর্তী পরিবারের মত মিলেমিশে সমান অধিকার নিয়ে বসবাস করতে পারে ও অন্তিমে পরম লক্ষ্যের পানে এগিয়ে যেতে সক্ষম হয়।